
মো: গোলাম কিবরিয়া । কথা২৪।রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের জন্য ঈদ উদযাপন একটি নতুন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ঈদের দিন সকাল ৯টায় কারাগারে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। নামাজের পর বন্দীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় সেই পরিচিত গান— “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।” গানটির মাদকতায় অনেক বন্দী যেন তাদের কারাবাসের কথা ভুলে যান এবং মনে করেন, তারা পরিবারের সঙ্গেই ঈদ উদযাপন করছেন।
ঈদ উপলক্ষে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই ধরনের আয়োজন পেয়ে বন্দীরা আনন্দে ও আবেগে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। যদিও এটি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তারা তাতে একটি ভিন্ন অনুভূতিতে হারিয়ে যান।
এটি শুধু বন্দীদের জন্য নয়, বরং তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয়-স্বজনদের জন্যও ছিল বিশেষ আয়োজন। সরেজমিনে দেখা যায়, সিনিয়র জেল সুপার মোঃ শাহ আলম খান তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দর্শনার্থীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পাশাপাশি, তাদের আপ্যায়ন করা হয় ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার—পায়েস, মুড়ি এবং মিষ্টি দিয়ে।
সাক্ষাৎ করতে আসা এক বন্দীর স্ত্রী জানান, ঈদ উপলক্ষে স্বামীর সাথে দেখা করতে এসে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, “এখানে আমাদের যে সম্মান, অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন করা হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু আমার জন্য নয়, সবার জন্যই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বন্দীদের জন্য যেমন পায়েস-মুড়ি ও উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, দর্শনার্থীদেরও একইভাবে আপ্যায়ন করা হয়েছে। তার স্বামী কারাগারে থেকেও ঈদের দিনে এমন সুস্বাদু খাবার পাচ্ছেন—এটি জানার পর তিনি আনন্দিত। এজন্য তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
এছাড়া, ঈদ উপলক্ষে আগামী তিনদিন বন্দীদের বাইরে থেকে আনা খাবার গ্রহণ, বিশেষ সাক্ষাৎ এবং ফোন কলের সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগটি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ঈদের দিনে বন্দী ও তাদের স্বজনদের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের এই সার্বিক আয়োজন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা এমনটাই মনে করেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।